সারা বিশ্বে সমাদৃত অ্যান্টিবায়োটিক
অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োগের প্রথম পাঁচ দিনেই হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি
বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রে
পরিচালিত এক গবেষণা সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই নিবন্ধ উদ্ধৃত করে
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে অনেক দেশে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশে
দেদার বিক্রি হচ্ছে অ্যাজিথ্রোমাইসিন। অনেক
ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন ছাড়াও এটি বিক্রি করা হয়। খবর বাংলানিউজ, এএফপি
ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রে
টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে চিকিৎসা গ্রহণকারী
রোগীদের তথ্য পর্যালোচনা করে অ্যাজিথ্রোমাইসিনজনিত মারাত্দক স্বাস্থ্যঝুঁকির এ
তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় কোনো
অ্যান্টিবায়োটিক নেননি বা অ্যামোক্সিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছেন এমন
রোগীদের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, অ্যাজিথ্রোমাইসিন
গ্রহণকারীদের হৃগরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ১০ লাখে এ মৃত্যুর হার ২৪৫ জনের মতো। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী
ব্রংকাইটিস এবং ইনফেকশন বা সংক্রামক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য
অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকেন রোগীরা। এর
মধ্যে জিথ্রোম্যাক্স বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক অন্য যে কোনো
অ্যান্টিবায়োটিক থেকে অনেক বেশি দামি এবং জনপ্রিয়। আর এ সুযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানি
থেকে শুরু করে মধ্যম সারির প্রায় প্রতিটি কোম্পানিরই নিজস্ব ব্র্যান্ডের
অ্যাজিথ্রোমাইসিনে বাজার সয়লাব। বাংলাদেশে
বেঙ্মিকো ফার্মার তৈরি এ ওষুধটির নাম অ্যাজিথ্রোসিন (Azithrocin),
স্কয়ারের
জিম্যাক্স (Zimax), নোভার্টিসের অ্যাজিথ (Azyth),
এসিআইর
ওডাজিথ(Odazyth), এসকেএফের
জিথ্রক্স (Zithrix), অপসোনিনের
অ্যাজিটিন(Azitin), এরিস্টোফার্মার
এজেড (AZ), জেনারেল ফার্মার অ্যাজোম্যাক(Azomac)
এ
ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোরও নিজ নিজ নামের অ্যাজিথ্রোমাইসিন বাজারে রয়েছে। তবে ক্ষতিকারক আর মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধিকারক এ ওষুধটির
ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োগ নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়,
ওষুধ
প্রশাসনের এ বিষয়ে উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইয়েল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা.
হার্লেন ক্রোমজ বলেন, 'মানুষের উচিত ওষুধ সেবনের আগে ওষুধটি
সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেওয়া।'